Comments

দক্ষিণ বগুড়ার ভয়ংকর সন্ত্রাসী নূরুজ্জামান ওরফে নূরু। মানুষের পা কাটতে সে পারদর্শী। এ দক্ষতার জন্য লোকে তাকে পা কাটা নূরু বলেও ডাকে। পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে নূরু তাকে রেহাই দেয়না। হাটু পর্যন্ত পা কেটে চিরতরে পঙ্গু করে দেয়। এ পর্যন্ত সে দু'জনের পা কেটে ফেলেছে। সর্বশেষ গত ২৩ মার্চ শাজাহানপুরে রেজাউল ইসলাম নামের আরও এক ব্যক্তির বাম পা কেটে নিয়েছে। তবে তার পা কেটে স্বস্তিতে ছিল না সে। পালিয়ে যায় ঢাকায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। ঢাকায় অভিযান চালিয়ে বগুড়ার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) আরিফুর রহমান মন্ডলের নেতৃত্বে ডিবির ওসি মিজানুর রহমান, শাজাহানপুর থানার ওসি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ মোসলেম উদ্দিন সহ একদল পুলিশ তাকে ধরতে গত বুধবার গভীর রাতে অভিযানে নামে। অভিযানকালে পুলিশের দলটি ঢাকার আশুলিয়া এলাকার কুরগাঁও নতুন পাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায় সন্ত্রাসী নূরুজ্জামান ওরফে পা কাটা নূরু (৩০) বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়া পাড়ার খাজা মিয়ার পুত্র। সন্ত্রাস, খুন, হত্যা প্রচেষ্টা, চাঁদাবাজি, পা কর্তন, মাদক, চোরাচালান সহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে হাফ ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। সে নূরুজ্জামান বাহিনীর প্রধান। তার বাহিনীর হাতে দক্ষিণ বগুড়ার শান্তিকামী লোকজন জিম্মি ছিল। বগুড়ার সিনিয়র এএসপি আরিফুর রহমান মন্ডল জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নূরুজ্জামান স্বীকার করেছে শেরপুরে আব্দুর রশিদ তেলি খুনের ঘটনায় সে জড়িত। ২০১০ সালে শেরপুরে রশিদ কে খুন করা হয়। খুনের পর রশিদ কে করতোয়া নদীতে ফেলে দেয়া হয়। এছাড়া শাজাহানপুরে রেজাউলের পা কর্তনের ঘটনায় সে সরাসরি জড়িত ছিল। নূরুজ্জামান স্বীকারোক্তিতে আরো বলেছে রশিদ ছিল তার বন্ধু। একদিন রাতে রশিদ ও রেজাউল শেরপুরে ২ লাখ টাকা ছিনতাই করে। ছিনতাইয়ের পর রশিদ নিজের কাছে বেশি টাকা রেখে রেজাউলকে কম টাকা ভাগ দেয়। এতে রেজাউলের রশিদের বিরোধ হয়। পরে রেজাউল তার শরনাপন্ন হয় এবং তার সাহায্য চায়। তখন সে এবং রেজাউল রশিদকে খুন করার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতে রশিদকে খুন করা হয়। কিন্তু এই খুনের অভিযোগে রেজাউল গ্রেফতার হয়। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল রশিদ খুনের ঘটনায় সেও জড়িত ছিল বলে দেয়। এরপর ওই হত্যার মামলায় সেও সে সময় ধরা পড়ে। পরে জামিনে সে ও রেজাউল ছাড়া পায়। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নতুন করে তার সাথে রেজাউলের বিরোধ দেখা দেয়। তখন সে নিজে রেজাউলকে উচিত শিক্ষা দেয়ার ফঁন্দি আটে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সে গত ২৩ মার্চ রাত ১০ টার দিকে সে ও তার লোকজন মাঝিড়া পাড়া এলাকায় রেজাউল কে একা পেয়ে পাশেই একটি কলার বাগানে ধরে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে মারপিটের এক পর্যায়ে রামদা দিয়ে কোপ মেরে তার বাম পা কেটে ফেলে। নূরুজ্জামান আরো স্বীকার করেছে শুধু এটিই নয়, আরো দুই ব্যক্তির পা কর্তনের সাথে সে জড়িত ছিল।

No. of Visitors

Followers

Recent Posts

SWT Credits

SWT Featured Posts Slider

SWT Breaking News Bar

SWT MAIN MENU

Games

Advertisements

Pesquisar

Popular Posts

জনপ্রিয় পোস্ট

| Copyright © 2013 _Blogger